কানে কম শোনা যায় কেন — কলকাতা

🩺 Docvani — বাংলা | Kolkata | Symptom Explainer

ডা. প্রতীক পোরওয়াল (Dr. Prateek Porwal), MBBS, DNB (ENT), CAMVD  |  13+

Prime ENT Center — online consultation available

✍️ Dr. Prateek Porwal (MBBS, DNB (ENT), CAMVD) — ENT Specialist | Docvani Health Education

কানে কম শোনা যায় কেন হয় — কলকাতা কলকাতা শহরে কানে কম শোনা যায় এমন অনেক রোগী আমার কাছে আসেন কানে কম শোনা মানে শুধু আওয়াজ কম হওয়া নয়, বরং কথা স্পষ্ট বুঝতে না পারা বা ভিড়ের মধ্যে কথোপকথন ধরতে না পারা সত্যি বলতে, এই সমস্যাটি আপনার দৈনন্দিন জীবনকে অনেকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তাই সঠিক সময়ে এর কার

🎧 এই নিবন্ধটি শুনুন3 মিনিট

কানে কম শোনা যায় কেন হয় — কলকাতা

কলকাতা শহরে কানে কম শোনা যায় এমন অনেক রোগী আমার কাছে আসেন কানে কম শোনা মানে শুধু আওয়াজ কম হওয়া নয়, বরং কথা স্পষ্ট বুঝতে না পারা বা ভিড়ের মধ্যে কথোপকথন ধরতে না পারা সত্যি বলতে, এই সমস্যাটি আপনার দৈনন্দিন জীবনকে অনেকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তাই সঠিক সময়ে এর কারণ খুঁজে বের করে চিকিৎসা করানো খুব জরুরি

কানে শুনতে না পাওয়ার কারণ কী কী?

দেখুন, কানে কম শোনা একটি সাধারণ সমস্যা, কিন্তু এর কারণ অনেক হতে পারে যখন কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষগুলো বা শ্রবণ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন আমরা একে সেন্সরিনিউরাল হেয়ারিং লস (SNHL) বলি এটি এমন নয় যে আপনার কান বন্ধ হয়ে গেছে, বরং মস্তিষ্কে শব্দ পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে কাজ করছে না

আমার clinic-এ রোজ দেখি, অনেক রোগী মনে করেন কানে ময়লা জমেছে বা ঠান্ডা লেগেছে, কিন্তু আসল সমস্যাটা — আরও গভীরে থাকে এই সমস্যাটি বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে পারে, তবে ছোটদেরও হতে পারে, যা তাদের পড়াশোনা এবং কথা বলার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে

কানে কম শোনা যায় — কানে কম শোনা যায়

কানের শ্রবণ শক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ

কানে কম শোনা গেলে শুধু যে আওয়াজ কম মনে হয় তা নয়, এর সাথে আরও অনেক লক্ষণ দেখা দিতে পারে এই লক্ষণগুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে এবং অনেক সময় সামাজিক মেলামেশায় বাধা সৃষ্টি করে

  • ** কথা বুঝতে অসুবিধা: বিশেষ করে যখন আশেপাশে অনেক কোলাহল থাকে, তখন আপনি মানুষের কথা স্পষ্ট শুনতে পান না বা বুঝতে পারেন না মনে হয় যেন সবাই ফিসফিস করে কথা বলছে
  • ** কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ: অনেক সময় কানে একটানা ভোঁ ভোঁ বা শিস দেওয়ার মতো শব্দ হয়, যাকে Tinnitus বলে এটি কানের ভেতরের ক্ষতির একটি সাধারণ লক্ষণ
  • ** আওয়াজ বেশি মনে হওয়া: কিছু আওয়াজ আপনার কাছে খুব জোরে বা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, এমনকি সেই আওয়াজ অন্যদের কাছে স্বাভাবিক হলেও এটি কানের ভেতরের একটি বিশেষ সমস্যার কারণে হয়
  • ** সামাজিক মেলামেশায় অনীহা: যেহেতু আপনি মানুষের কথা ঠিকভাবে শুনতে বা বুঝতে পারেন না, তাই ধীরে ধীরে আপনি লোকজনের সাথে মিশতে ভয় পান বা দূরে থাকতে শুরু করেন
  • ** বিষণ্ণতা এবং একাকীত্ব: কানে কম শোনার কারণে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়তে পারে, যা থেকে বিষণ্ণতা এবং একাকীত্ব দেখা দিতে পারে
  • ** স্মৃতিশক্তির সমস্যা: দীর্ঘমেয়াদী শ্রবণশক্তি হ্রাস মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগের সমস্যা তৈরি করতে পারে

কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন?

কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত ENT বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করা উচিত এই লক্ষণগুলো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে

  • ** হঠাৎ করে কানে কম শোনা: যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হঠাৎ করে আপনার এক কানে বা দুই কানে শুনতে অসুবিধা হয়, তবে এটি একটি জরুরি অবস্থা এর কারণ রক্তনালীর সমস্যা, ভাইরাস ইনফেকশন বা অটোইমিউন রোগ হতে পারে ১-২% ক্ষেত্রে vestibular schwannoma-এর মতো টিউমারও এর কারণ হতে পারে
  • ** এক কানে কম শোনা বা দুই কানে অসমভাবে শোনা: যদি এক কানে অন্য কানের চেয়ে বেশি কম শোনেন, তবে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত এটি vestibular schwannoma বা অন্য কোনো টিউমারের লক্ষণ হতে পারে
  • ** বাচ্চাদের শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া: যদি কোনো বাচ্চার শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তবে এটি জেনেটিক কারণ, CMV ইনফেকশন বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে
  • ** কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই কানে ওঠানামা করে কম শোনা: যদি আপনার দুই কানে শুনতে পাওয়ার ক্ষমতা কয়েক সপ্তাহ ধরে ওঠানামা করে, তবে এটি অটোইমিউন ইনার ইয়ার ডিজিজ হতে পারে
  • ** Aminoglycoside জাতীয় ঔষধ খাওয়ার পর কানে কম শোনা: কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন aminoglycoside) কানের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে যদি এই ধরনের ঔষধ খাওয়ার পর আপনার কানে কম শোনা যায়, তবে এটি ototoxicity-এর লক্ষণ

কানে কম শোনা যায় কারণ কি

কানে কম শোনার অনেক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে কিছু খুব সাধারণ এবং কিছু বেশ জটিল এই কারণগুলো কানের ভেতরের সূক্ষ্ম গঠনকে প্রভাবিত করে

  • ** বয়স বাড়ার সাথে সাথে: বয়স বাড়ার সাথে সাথে কানের ভেতরের হেয়ার সেলগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যাকে presbycusis বলে এটি কানে কম শোনার সবচেয়ে সাধারণ কারণ
  • ** জেনেটিক কারণ: কিছু মানুষের জন্মগতভাবে বা বংশগত কারণে কানে কম শোনার সমস্যা থাকে GJB2 (connexin 26) নামক জিনের ত্রুটি এর একটি প্রধান কারণ
  • ** শব্দ দূষণ: খুব জোরে আওয়াজের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ থাকলে কানের ভেতরের হেয়ার সেলগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যেমন, কারখানায় কাজ করা, কনসার্টে যাওয়া বা হেডফোনে খুব জোরে গান শোনা
  • ** কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ঔষধ, বিশেষ করে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন aminoglycoside) বা কেমোথেরাপির ঔষধ কানের ভেতরের হেয়ার সেলগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যাকে ototoxicity বলে
  • ** হঠাৎ করে কানে কম শোনা: অনেক সময় কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে কানে কম শোনা যেতে পারে এর কারণ ভাইরাস ইনফেকশন, রক্তনালীর সমস্যা বা অটোইমিউন রোগ হতে পারে
  • ** ইনফেকশন: মেনিনজাইটিস, হাম, হার্পিস ভাইরাস বা লাইম রোগের মতো কিছু ইনফেকশন কানের ভেতরের অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে শ্রবণশক্তি হ্রাস করতে পারে
  • ** অটোইমিউন রোগ: কিছু অটোইমিউন রোগ, যেমন GPA, লুপাস বা সাক্রয়েড, কানের ভেতরের অংশে প্রদাহ সৃষ্টি করে শ্রবণশক্তি হ্রাস করতে পারে
  • ** টিউমার: কানের ভেতরের স্নায়ুর কাছে কিছু টিউমার, যেমন vestibular schwannoma, ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি হ্রাস করতে পারে এটি সাধারণত এক কানে বেশি হয়
  • ** আঘাত: মাথায় গুরুতর আঘাত বা কানের ওপর সরাসরি আঘাত লাগলে কানের ভেতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে

কলকাতা শহরে এই সমস্যার স্থানীয় কারণ

কলকাতা শহরের পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার কিছু বিশেষ দিক কানে কম শোনার সমস্যাকে প্রভাবিত করতে পারে

  • ** শব্দ দূষণ: দুর্গাপূজা, রাজনৈতিক মিছিল, ট্র্যাফিকের কোলাহল এবং হাওড়া বা হুগলির জুট মিলের মতো শিল্পাঞ্চলের উচ্চ শব্দ কানে কম শোনার একটি বড় কারণ দীর্ঘক্ষণ এই ধরনের শব্দে থাকলে কানের ক্ষতি হতে পারে
  • ** আর্দ্রতা এবং ইনফেকশন: সারা বছর উচ্চ আর্দ্রতা, বিশেষ করে বর্ষাকালে, কানের ভেতরের অংশে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা অন্যান্য ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে শ্রবণশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে
  • ** বায়ু দূষণ: শীতকালে কুয়াশা এবং বায়ু দূষণ, বিশেষ করে PM 2.5 কণা, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করে যা কানের সাথে সম্পর্কিত ইউস্টেশিয়ান টিউবকেও প্রভাবিত করতে পারে
  • ** জেনেটিক প্রবণতা: বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে কিছু জেনেটিক প্রবণতা থাকতে পারে যা শ্রবণশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ায়, যদিও এর জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন
  • ** ঔষধের অপব্যবহার: অনেক সময় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য ঔষধ সেবন করা হয়, যা কানের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে এবং ototoxicity সৃষ্টি করতে পারে

কানে কম শোনা এবং অন্যান্য রোগের মধ্যে পার্থক্য

কানে কম শোনাকে অনেক সময় অন্য কানের সমস্যার সাথে গুলিয়ে ফেলা হয় যেমন, কানে ময়লা জমা, কানের পর্দা ফেটে যাওয়া বা কানের ইনফেকশন কিন্তু কানে কম শোনা একটি ভিন্ন ধরনের সমস্যা, যা কানের ভেতরের অংশ বা স্নায়ুর ক্ষতির কারণে হয়

সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য ENT বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করা জরুরি

বৈশিষ্ট্য কানে কম শোনা Presbycusis Noise-induced Hearing Loss Otosclerosis
প্রধান লক্ষণ কথা বুঝতে অসুবিধা, ভোঁ ভোঁ শব্দ ধীরে ধীরে উভয় কানে কম শোনা উচ্চ শব্দে থাকার পর কম শোনা ধীরে ধীরে কম শোনা, কানে ভোঁ ভোঁ
সময়কাল ধীরে ধীরে বা হঠাৎ করে ধীরে ধীরে, বয়স বাড়ার সাথে হঠাৎ বা দীর্ঘমেয়াদী শব্দে থাকার পর ধীরে ধীরে, সাধারণত তরুণ বয়সে
কারণ ভেতরের কানের কোষ বা স্নায়ুর ক্ষতি বয়সজনিত কানের কোষের ক্ষয় উচ্চ শব্দের কারণে কোষের ক্ষতি কানের হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
কখন চিন্তা করবেন হঠাৎ করে বা এক কানে কম শুনলে দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা হলে শব্দময় পরিবেশে কাজ করলে পারিবারিক ইতিহাস থাকলে

সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য ENT বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন

কিভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?

যখন আপনি কানে কম শোনার সমস্যা নিয়ে আমার Prime ENT Center-এ আসেন, তখন আমি প্রথমে আপনার সাথে বিস্তারিত কথা বলি আমি জানতে চাই আপনার কখন থেকে এই সমস্যা শুরু হয়েছে, কিভাবে শুরু হয়েছে, কোনো আঘাত লেগেছিল কিনা, বা কোনো ঔষধ খেয়েছেন কিনা কলকাতা বা হাওড়া থেকে অনেক রোগী আসেন যারা তাদের কাজের পরিবেশ বা পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে জানান

এরপর আমি আপনার কানের একটি Otoscopy করি, অর্থাৎ কানের ভেতরের অংশ একটি বিশেষ দূরবীন দিয়ে পরীক্ষা করি এতে কানের পর্দা এবং বাইরের কানের অবস্থা দেখা যাওয়ারপর সবচেয়ে গুরুত্বপূণ পরীক্ষা হলো Pure Tone Audiometry বা PTA

এই পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার প্রতিটি কানের শ্রবণশক্তি কতটা কমেছে এবং কোন ফ্রিকোয়েন্সিতে বেশি কমেছে তা জানা যায় এটি SNHL নির্ণয়ের জন্য Gold Standard পরীক্ষা যদি SNHL ধরা পড়ে, তাহলে Air-bone gap থাকে না, অর্থাৎ কানের ভেতরের সমস্যার কারণে শুনতে অসুবিধা হয়

কিছু ক্ষেত্রে, যদি এক কানে বেশি কম শোনা যায় বা হঠাৎ করে সমস্যা হয়, তাহলে MRI with gadolinium (IAM/brain) করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে এটি কানের ভেতরের স্নায়ুর কাছে কোনো টিউমার, যেমন vestibular schwannoma, আছে কিনা তা দেখতে সাহায্য করে এছাড়া, কিছু রক্ত পরীক্ষাও করা হতে পারে, যেমন FBC, ESR, CRP, গ্লুকোজ, লিপিড, অটোইমিউন স্ক্রিন (ANA, ANCA, ACE) বা সিফিলিস সেরোলজি, বিশেষ করে যদি হঠাৎ করে কানে কম শোনা যায় বা অটোইমিউন রোগের সন্দেহ থাকে

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে Otoacoustic Emissions (OAE) বা ABR (Auditory Brainstem Response) পরীক্ষা করা হয়, যা কানের ভেতরের হেয়ার সেল বা স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করে এই পরীক্ষাগুলো নির্ভুলভাবে সমস্যাটি চিহ্নিত করতে সাহায্য করে এবং সঠিক চিকিৎসার পথ দেখায়

কানের শ্রবণ শক্তি বাড়ানোর উপায়?

কানে কম শোনার চিকিৎসা নির্ভর করে এর কারণ এবং তীব্রতার ওপর কিছু ক্ষেত্রে বাড়িতেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের বিশেষ চিকিৎসা বা এমনকি অপারেশনেরও প্রয়োজন হতে পারে

বাড়িতে কিভাবে আরাম পাবেন?

বাড়িতে কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করে আপনি আপনার শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রভাব কমাতে পারেন এবং দৈনন্দিন জীবনকে আরও আরামদায়ক করতে পারেন

  • ** Hearing Aids ব্যবহার করুন: যদি ডাক্তার Hearing Aids ব্যবহারের পরামর্শ দেন, তবে নিয়মিত এবং সঠিক উপায়ে এটি ব্যবহার করুন এটি আপনার শ্রবণশক্তিকে উন্নত করতে এবং কথা বুঝতে সাহায্য করবে
  • ** শব্দ দূষণ থেকে বাঁচুন: উচ্চ শব্দময় পরিবেশে কাজ করার সময় বা দুর্গাপূজার মতো অনুষ্ঠানে জোরে আওয়াজের মধ্যে থাকলে Earplugs বা Earmuffs ব্যবহার করুন এটি কানের আরও ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করবে
  • ** কথাবার্তার সময় কোলাহল কমান: যখন কারো সাথে কথা বলছেন, তখন আশেপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমানোর চেষ্টা করুন এতে আপনি কথাগুলো আরও স্পষ্ট শুনতে পাবেন
  • ** মুখ দেখে কথা বলার চেষ্টা করুন: কথা বলার সময় বক্তার মুখের দিকে তাকান এতে আপনি ঠোঁট নড়াচড়া দেখে কথা বুঝতে পারবেন, যা আপনার শ্রবণশক্তিকে সাহায্য করবে

ডাক্তারের চিকিৎসা

ডাক্তারের কাছে গেলে আপনার সমস্যার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হবে

  • ** Steroid ঔষধ: যদি হঠাৎ করে কানে কম শোনা যায়, তবে ডাক্তার উচ্চ মাত্রার Oral Steroids বা কানের পর্দায় Intratympanic Steroids ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন এটি কানের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
  • ** অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা: যদি অটোইমিউন রোগের কারণে কানে কম শোনা যায়, তবে ডাক্তার Systemic Steroids এবং কিছু ক্ষেত্রে Immunosuppression ঔষধ দিতে পারেন
  • ** Hearing Aids: বেশিরভাগ SNHL রোগীর জন্য Hearing Aids একটি অত্যন্ত কার্যকর সমাধান এটি কানের ভেতরের ক্ষতি পুষিয়ে শব্দকে মস্তিষ্কে আরও ভালোভাবে পৌঁছাতে সাহায্য করে

কখন অপারেশন দরকার হয়?

কানে কম শোনার সমস্যায় সবসময় অপারেশনের প্রয়োজন হয় না তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে

  • ** Cochlear Implant: যদি আপনার শ্রবণশক্তি খুব বেশি কমে যায় এবং Hearing Aids ব্যবহার করেও কোনো লাভ না হয়, তবে Cochlear Implant-এর কথা ভাবা যেতে পারে এটি একটি সার্জিক্যাল ডিভাইস যা কানের ভেতরের স্নায়ুকে সরাসরি উদ্দীপিত করে
  • ** Bone Conduction Devices: কিছু রোগীর জন্য Bone Conduction Devices বা Middle Ear Implants-এর মতো বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করা যেতে পারে, যা কানের হাড়ের মাধ্যমে শব্দকে মস্তিষ্কে পাঠায়
  • ** টিউমার অপসারণ: যদি কানের ভেতরের স্নায়ুর কাছে কোনো টিউমার, যেমন vestibular schwannoma, পাওয়া যায়, তবে সেটিকে অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করার প্রয়োজন হতে পারে

বাড়িতে কী করবেন আর না?

কানে কম শোনার সমস্যায় সঠিক যত্ন নেওয়া খুব জরুরি কিছু অভ্যাস আপনার কানের জন্য ভালো, আবার কিছু অভ্যাস কানের ক্ষতি করতে পারে

  • ** কী করবেন:
  • ** Hearing Aids নিয়মিত ব্যবহার করুন: যদি আপনার ডাক্তার Hearing Aids ব্যবহারের পরামর্শ দেন, তবে এটি নিয়মিত ব্যবহার করুন এটি আপনার মস্তিষ্কের শব্দ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতাকে সচল রাখতে সাহায্য করে এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কমায়
  • ** শব্দময় পরিবেশে কান সুরক্ষিত রাখুন: কর্মক্ষেত্রে বা উচ্চ শব্দময় অনুষ্ঠানে Earplugs বা Earmuffs ব্যবহার করুন এটি Noise-induced Hearing Loss প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
  • ** কথাবার্তার সময় মনোযোগ দিন: যখন কেউ কথা বলছে, তখন তার দিকে তাকিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনুন প্রয়োজনে তাকে ধীরে কথা বলতে বলুন
  • ** হঠাৎ করে কানে কম শোনা গেলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান: এটি একটি জরুরি অবস্থা দেরি করলে চিকিৎসার সুযোগ কমে যেতে পারে

    ** কী করবেন না:

    কানে কম শোনা থেকে বাঁচার উপায়

    কানে কম শোনা একটি গুরুতর সমস্যা, তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব কলকাতা শহরের প্রেক্ষাপটে কিছু বিশেষ দিকে নজর রাখা জরুরি

    • ** শব্দ দূষণ থেকে নিজেকে বাঁচান: কলকাতা একটি কোলাহলপূর্ণ শহর ট্র্যাফিকের শব্দ, দুর্গাপূজার সময় মাইকের আওয়াজ, বা জুট মিলের মতো শিল্পাঞ্চলে কাজ করার সময় Earplugs বা Earmuffs ব্যবহার করুন উচ্চ শব্দে দীর্ঘক্ষণ থাকলে কানের ভেতরের হেয়ার সেলগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
    • ** হেডফোন ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকুন: হেডফোনে উচ্চ শব্দে গান শোনা বা সিনেমা দেখা থেকে বিরত থাকুন বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই অভ্যাসটি খুব দেখা যায় WHO guidelines অনুযায়ী, “৬০-৬০ নিয়ম” মেনে চলুন, অর্থাৎ ৬০% ভলিউমে ৬০ মিনিটের বেশি শুনবেন না
    • ** ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ খাবেন না: কিছু ঔষধ, যেমন aminoglycoside জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক, কানের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করবেন না, বিশেষ করে যদি আপনার কিডনির সমস্যা থাকে বা আগে থেকেই শ্রবণশক্তি হ্রাসের ইতিহাস থাকে
    • ** নিয়মিত কানের পরীক্ষা করান: যদি আপনার পরিবারে কানে কম শোনার ইতিহাস থাকে, বা আপনি উচ্চ শব্দময় পরিবেশে কাজ করেন, তবে নিয়মিত ENT বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে কানের পরীক্ষা করান প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসা সহজ হয়
    • ** সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন: বর্ষাকালে কলকাতা শহরে আর্দ্রতা বেশি থাকে, যা কানের ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ায় কান পরিষ্কার এবং শুকনো রাখুন ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো জ্বর কানের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, তাই এই ধরনের রোগ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন

    বাচ্চাদের এবং বয়স্কদের মধ্যে কানে কম শোনা

    কানে কম শোনার সমস্যা সব বয়সের মানুষের হতে পারে, তবে বাচ্চাদের এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর লক্ষণ এবং প্রভাব ভিন্ন হতে পারে

    বাচ্চাদের মধ্যে

    বাচ্চাদের মধ্যে কানে কম শোনা একটি গুরুতর সমস্যা, কারণ এটি তাদের ভাষা শেখা এবং কথা বলার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে যদি একটি শিশু জন্মের ৬ মাসের মধ্যে শব্দে সাড়া না দেয়, বা তার কথা বলতে দেরি হয়, তবে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত এই কথাটা আমি আমার সব রোগীকে বোঝাই — অনেক সময় বাবা-মা বুঝতে পারেন না যে তাদের বাচ্চার কানে সমস্যা আছে

    নবজাতকদের জন্মের পরপরই Hearing Screening করানো উচিত যদি কোনো সমস্যা ধরা পড়ে, তবে যত দ্রুত সম্ভব Hearing Aids লাগানো বা অন্যান্য চিকিৎসা শুরু করা উচিত, যাতে তাদের মস্তিষ্কের ভাষা বিকাশে কোনো বাধা না আসে

    বয়স্কদের মধ্যে

    বয়স্কদের মধ্যে কানে কম শোনা খুবই সাধারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে কানের ভেতরের হেয়ার সেলগুলো ক্ষয় হতে শুরু করে, যার ফলে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যায় বয়স্ক রোগীরা প্রায়শই অভিযোগ করেন যে তারা কথা স্পষ্ট শুনতে পান না, বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে

    এই সমস্যাটি তাদের সামাজিক মেলামেশা কমিয়ে দেয়, যা থেকে একাকীত্ব, বিষণ্ণতা এবং এমনকি স্মৃতিশক্তির সমস্যাও দেখা দিতে পারে NICE guidelines অনুযায়ী, বয়স্কদের শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রাথমিক চিকিৎসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মিত কানের পরীক্ষা এবং Hearing Aids ব্যবহার করে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়

    দাবিত্যাগ

    প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

    আমি কি শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে আছি?

    আপনার বয়স বাড়ার সাথে সাথে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে, কারণ বয়স-সম্পর্কিত শ্রবণশক্তি হ্রাস খুবই সাধারণ উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে আসা, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন, অথবা শ্রবণশক্তি হ্রাসের পারিবারিক ইতিহাসও আপনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে যদি আপনার কোনো উদ্বেগ থাকে, তবে একটি শ্রবণ পরীক্ষা আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে

    চিকিত্সকরা শ্রবণশক্তি হ্রাসের জন্য কীভাবে পরীক্ষা করেন?

    ডাক্তাররা সাধারণত পিওর-টোন অডিওমেট্রি পরীক্ষা ব্যবহার করে শ্রবণশক্তি হ্রাস পরীক্ষা করেন, যা বিভিন্ন শব্দ শোনার আপনার ক্ষমতা পরিমাপ করে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন হঠাৎ বা অপ্রতিসম শ্রবণশক্তি হ্রাসের ক্ষেত্রে, অন্যান্য অবস্থা বাতিল করার জন্য একটি MRI স্ক্যান করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে কিছু ক্ষেত্রে, কারণ শনাক্ত করার জন্য রক্ত পরীক্ষা বা জেনেটিক পরীক্ষাও সুপারিশ করা হতে পারে

    শ্রবণশক্তি হ্রাসের চিকিত্সার সাধারণ উপায়গুলি কী কী?

    শ্রবণশক্তি হ্রাসের সবচেয়ে সাধারণ চিকিৎসা হলো হিয়ারিং এইড ব্যবহার করা, যা আপনার শোনার এবং যোগাযোগ করার ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে হিয়ারিং এইড দ্বারা সাহায্য না পাওয়া গুরুতর ক্ষেত্রে, একটি কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট একটি বিকল্প হতে পারে নির্দিষ্ট ধরনের শ্রবণশক্তি হ্রাস, যেমন হঠাৎ বা অটোইমিউন-সম্পর্কিত ক্ষেত্রে, স্টেরয়েড ওষুধ দিয়েও চিকিৎসা করা যেতে পারে

    আমার শ্রবণশক্তি হ্রাসের জন্য আমি বাড়িতে কী করতে পারি?

    বাড়িতে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া সামলাতে, আপনার হেয়ারিং এইডগুলো নিয়ম মেনে, দুই কানেই ব্যবহার করুন যদি ডাক্তারবাবু বলেন কথা বলার সময়, পেছনের আওয়াজ কমানোর চেষ্টা করুন এবং যিনি কথা বলছেন তার দিকে তাকিয়ে থাকুন, এতে ঠোঁট দেখে বুঝতে সুবিধা হবে বেশি আওয়াজের জায়গায় সবসময় কান ঢাকার জিনিস যেমন ইয়ারপ্লাগ বা ইয়ারমাফ ব্যবহার করুন যাতে আরও ক্ষতি না হয়

    শ্রবণশক্তি হ্রাসের জন্য আমার কখন অবিলম্বে একজন ডাক্তার দেখাতে হবে?

    যদি হঠাৎ করে আপনার শ্রবণশক্তি কমে যায়, অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত, কারণ এটি একটি জরুরি অবস্থা যদি এক কানে শ্রবণশক্তি অন্য কানের চেয়ে অনেক বেশি কমে যায় (অ্যাসিমেট্রিক) অথবা যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনার শ্রবণশক্তি ওঠানামা করে, তাহলেও দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করালে কারণ বোঝা যায় এবং চিকিৎসার ফল ভালো হয়


    📞 अभी संपर्क करें: Dr. Prateek Porwal (MBBS, DNB ENT, CAMVD) से परामर्श के लिए 7393062200 पर कॉल या WhatsApp करें।

    🏥 Dr. Prateek Porwal offers online consultations across India under NMC Telemedicine Guidelines 2020. Video call, WhatsApp or phone: 7393062200

    ⚕️ Medical Disclaimer

    For educational purposes only. Not a substitute for professional medical advice. Always consult a qualified ENT specialist.

    Dr. Prateek Porwal (MBBS, DNB (ENT), CAMVD) | About | Prime ENT Center, Hardoi | ☎️ +91-7393062200


    Medically reviewed by: Dr. Prateek Porwal, MBBS, DNB ENT, CAMVD — Last updated: 02 April 2026

PP
Dr. Prateek Porwal
MBBS, DNB ENT, CAMVD — Vertigo & ENT Specialist

Founder, Prime ENT Center, Hardoi, UP. Inventor of the Bangalore Maneuver for BPPV. Only VNG + Stabilometry clinic in Central UP. Online consultations available across India — drprateekporwal.com · 7393062200

Scroll to Top